বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা হয়েছে। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মঙ্গলবার মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী আবু বকর সিদ্দিক বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় মো. জাহাঙ্গীর কবীর তার বরগুনার বাসায় আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে তিন মিনিট কথা বলে ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল করেন। সেই ভিডিও অন্য আসামিরা তাদের মোবাইল ফোন দিয়ে ভাইরাল করেন।
অভিযোগ রয়েছে আসামিরা রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্য সাধারণ জনগণের মধ্যে ভয়ভীতি সঞ্চার করার অভিপ্রায়ে এমন কাজ করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন আসামিরা বিভিন্নভাবে জমি দখল ও অপকর্মের অভিযোগ এনেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- মো. জাহাঙ্গীর কবীর, আবদুল মোতালেব মৃধা, গোলাম কবির, জুবায়ের আদনান অনিক, শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ অলি, কবির হোসেন, জামাল হোসেন, রুহুল আমিন সাং বটতলা, শাহাবুদ্দিন সাবু, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান বাহাদুর, আজিজুল হক স্বপন, মনিরুজ্জামান জামাল, আলমগীর হোসেন, মীর আরাফাত জামান তুষার, রেজাউল করিম রেজা, অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ, জালাল ওরফে জুতা জালাল, খলিলুর রহমান, শিপন জমাদ্দার, আকতারুজ্জামান রকিব, রানা তালুকদার, মুরাদ, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, শাওন তালুকদার, অ্যাডভোকেট জুনাইদ জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট আশ্রাফুল ইসলাম শিল্পী, কবির হাওলাদার, বেলাল মোল্লা, রায়হান মোল্লা ও রিপন দফাদার। আসামি মো. জাহাঙ্গীর কবীর অপর দুটি চাঁদাবাজি মামলায় জেলহাজতে আছেন।
এ ব্যাপারে আসামি অ্যাডভোকেট আশ্রাফুল আলম শিল্পী বলেন, বাদীকে তো আমি চিনি না। এছাড়া ১২ আগস্ট আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসায় ছিলাম না। আমাকে কেন আসামি দিয়েছেন তা আমি জানি না। আমাকে দেখানো হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক। আমি তো জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও না। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে আমার নাম নেই। আমি ২০২১ সালে বুড়িরচর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছি। তদন্ত করলে দেখতে পাবেন ১২ আগস্ট মো. জাহাঙ্গীর কবীরের বাসায় আমি ছিলাম কিনা। আমি সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ ব্যাপারে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, আদালতের কপি এখনো হাতে পাইনি। আদালতের আদেশের কপি পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।
প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।


















