বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। তাই যেসব বাংলাদেশি নাগরিক আশ্রয়প্রার্থনা করে ব্যর্থ হয়েছে তাদের ‘দ্রুত প্রত্যাবাসন’ (ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন) ব্যবস্থায় দেশে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য সরকার। বৃটিশ সরকার মনে করছে- এসব বাংলাদেশিরা ভিসা নীতির অপব্যবহার করছে।
শুধুমাত্র স্থায়ীভাবে থাকার প্রয়াসে গত বছর প্রায় ১১,০০০ বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে, যাদের উদ্দেশ্যই ছিল ১২ মাসের মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন জমা দেওয়া।
অভিবাসীরা গেল বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক ছাত্র, কর্মী বা দর্শনার্থী ভিসায় এসে আশ্রয় দাবি করে বৃটেনের ‘পেছনের দরজা’ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। এসব আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশই সফল হতে পেরেছেন।

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসন মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘দ্রুত প্রত্যাবাসন’ (ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন) চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যাতে কেবল ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীই নয়, বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা অপরাধী এবং যারা ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করছেন তাদেরকে সহজে দ্রুত দেশে পাঠানো যায়।
এই প্রত্যাবাসন চুক্তি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরো সুগম করবে। যেখানে অপসারণের যথাযথ প্রমাণ তাদের কাছে থাকবে। ফলে এসব ক্ষেত্রে পূর্বে যে একটি বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার নেয়া হত সেটির আর প্রয়োজন হবে না।
চলতি সপ্তাহে লন্ডনে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম ইউকে-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে এই প্রত্যাবাসন চুক্তিটির ব্যপারে উভয় দেশ সম্মত হয়। উভয় দেশ তাদের অংশীদারিত্ব জোরদার করতে এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
টমলিনসন বলেন, অবৈধভাবে এখানে আসা বা থাকা বন্ধ করার জন্য অভিবাসীদের অপসারণের কাজ ত্বরান্বিত করা আমাদের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশ আমাদের একটি মূল্যবান অংশীদার এবং এটা চমৎকার যে আমরা তাদের সঙ্গে এই অভিবাসন এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এরইমধ্যে প্রমাণ পেয়েছি যে এই চুক্তিগুলো অবৈধ অভিবাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন এবং আমি সবার জন্য একটি ন্যায্য ব্যবস্থা তৈরি করতে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

সাধারণত অনুমোদিত ভিসা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেয় – সেটা খুব বেশি হলে মাত্র কয়েক মাস।
কিন্তু আশ্রয়ের আবেদন করার মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য এখানে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কারণ তখন অভিবাসীদের অপসারণ করতে গেলে হোম অফিস মানবাধিকার আইনসহ আরো অনেক বাধার সম্মুখীন হয়।
গত মাসে ফাঁস হওয়া একটি নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রের্কড সংখ্যক ২১,৫২৫ জন ভিসাধারী আশ্রয়প্রার্থনা করেছেন, যার বার্ষিক বৃদ্ধি ১৫৪% এর মত।
এর মানে প্রতি ১৪০ জনের মধ্যে একজন যারা ভিসা নিয়ে প্রবেশ করেছে তারা আশ্রয় দাবি করেছে। গত এক দশকে, ১ লাখ ২ হাজারেরও বেশি লোক শুধুমাত্র অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আবেদন করেছে।
প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।





















