বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, শিক্ষা সনদ জালসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজীক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এসব সুপারিশ অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত।
এ সময় আদালত পাইলট নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ আমজনতা সবাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী। এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে লোক দেখানো হলে সেটি মেনে নেওয়া হবে না।
গত বছরের ১ মার্চ দেশের একটি ইংরেজি পত্রিকায় পাইলট নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ উড্ডয়নের জন্য চুক্তিভিত্তিক পাইলটদের একটি ব্যাচ নিয়োগ দিয়েছিল।
নিয়োগের সময় বিমান দাবি করেছিল যে তাদের পাইলট সংকট থাকায় অবিলম্বে এ নিয়োগ দিতে হবে। এর ১ বছর পরে নিয়োগ করা ১৪ জন পাইলটের মধ্যে মাত্র ৫ জন উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করেছে। বাকিরা আটকে আছেন জাল সনদ, অযোগ্যতা ও লাইসেন্সিং পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে।
বিমান তাদের দিয়েছে মোটা অংকের বেতন, সেইসঙ্গে প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করেছে বিপুল অর্থ, যার সবই গেছে জলে। অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ উড়তে ফার্স্ট অফিসারদের কমপক্ষে ৩০০ ঘণ্টার ফ্লাইং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তদের কারোই সেই অভিজ্ঞতা ছিলোনা।
প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।


















