মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আজকাল বিমান ভ্রমণ বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও পাইলটকে মারধরের অভিযোগ তো কখনও কুয়াশার কারণে বিমান বাতিল, আবার কখনও রানওয়েতে বসে যাত্রীদের খাওয়া দাওয়ার খবর নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রচুর।
তবে এর থেকেও অদ্ভুত সব ঘটনা বিমানে ঘটেছে বা ঘটে থাকে। এই যেমন বিমানে উঠে দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া-মারপিট লেগে যাওয়ার ঘটনা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। কিন্তু এর ফলাফল যে কতটা মারাত্মক হতে পারে তা জানেন না অনেকেই। এমনকি শ্রীঘরেও যেতে হতে পারে। তাই ঝগড়ুটে সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে নিয়ে বিমানে ওঠার আগে সাবধান!
সম্প্রতি মিউনিখ থেকে ব্যাংককগামী লুফথানসা এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকে দিল্লিতে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল। যার কারণ ছিল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া। ভাবা যায়? প্রত্যক্ষদর্শীরাও এই ঘটনায় অবাক। তাঁদের কথায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার শুরুটা স্বাভাবিকই ছিল। সামান্য কথাকাটাকাটি।
তবে কেবিন ক্রুরা মধ্যস্থতা করে দুজনকেই শান্ত করেন। কিন্তু সেই দম্পতি থামেননি। ঝগড়া বাড়তেই থাকে। বাড়তে বাড়তে তা মারামারিতে গিয়ে পৌঁছোয়। পরিস্থিত এমন হয় যে পাইলট বিমান নিয়ে তড়িঘড়ি জরুরি অবতরণ করেন। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে যে, বিমানে যাত্রীদের মধ্যে মারামারি আটকাতে আদৌ কি কোনও আইন রয়েছে?
প্লেনে মারামারি হলে…
যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে তাঁদের জেল পর্যন্ত হতে পারে। তাই যাঁরা বিমানে ভ্রমণ করেন প্রায়ই, তাঁরা নিজেদের আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সহযাত্রীর সঙ্গে সঠিক আচরণ করুন।
কেউ যদি অস্ত্র নিয়ে বিমানে ওঠেন, তাহলে তাঁর জেলও হতে পারে। এছাড়া সেই যাত্রীর জিনিসপত্র বাজেয়াপ্তও করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, এয়ারক্রাফ্ট রুলস্ ১৯৩৭ এর ২২ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও যাত্রী ক্রুকে ভয় দেখান বা হুমকি দেন, তাহলে তাঁকে আর বিমানে চড়তে দেওয়া নাও হতে পারে। ক্রু মেম্বারদের কাজে হস্তক্ষেপ করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
ভুলেও এই জিনিসগুলি নিয়ে বিমানে উঠবেন না
বিমানে ভ্রমণের সময় কোনও যাত্রী কোনও ধরনের দাহ্য পদার্থ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন না। বিমানে দেশলাই, লাইটার এবং আতশবাজি বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ছুরি, ব্লেড, কাঁচির মতো কোনো ধারালো জিনিস বহনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকী পারদ থার্মোমিটার নিয়েও বিমানে ওঠা যায় না। এছাড়া খেলনা অস্ত্র, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, তেজস্ক্রিয় পদার্থ-চুম্বক, স্প্রে পেইন্ট বহনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারও কাছে এইসব জিনিস পাওয়া গেলে তাঁকে জেলে যেতে হতে পারে, দিতে হতে পারে মোটা টাকার জরিমানাও।
কেন এমন নিয়ম রয়েছে?
বিমান ভ্রমণের সময় প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা জরুরি। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এই ধরনের বিধিনিষেধ এবং নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে।
অনেক সময় অপরাধ প্রবণ ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ জিনিসপত্র বহন করে বিমানে বিপদ ঘটায়, যে কারণে অন্যান্য যাত্রীদের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া যেসব জিনিসে দ্রুত আগুন লেগে যায়, সেগুলির কারণে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এগুলিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন অবস্থায়, যদি তদন্ত করে জানা যায় যে, এই জিনিসগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, তাহলে যাত্রীকে কেবল জেলে পাঠানোই হবে না, তার লাগেজও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।


















